ফল না জুস, কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যতালিকায় নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে ফল খাওয়া নিয়ে রোগীদের মধ্যে প্রায়ই দ্বিধা কাজ করে।
পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফলের রসের চেয়ে আস্ত বা পুরো ফল খাওয়াই অনেক বেশি নিরাপদ ও উপকারী। ফলে প্রাকৃতিক শর্করার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পানি ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান থাকে।
এই ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যার ফলে রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফল যখন চিবিয়ে খাওয়া হয়, তখন এর ফাইবার প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রকের মতো কাজ করে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় রাখে।
অন্যদিকে, ফল থেকে রস বা জুস তৈরি করার সময় বেশিরভাগ ফাইবার বাদ পড়ে যায় এবং প্রাকৃতিক চিনি ঘনীভূত অবস্থায় থাকে। ফাইবার না থাকায় এই রস খুব দ্রুত হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানদের মতে, ডায়াবেটিস, পিসিওডি বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য নিয়মিত ফলের রস পান করা উপযুক্ত নয়, কারণ এটি রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি চিবিয়ে খাওয়ার তৃপ্তি থেকেও বঞ্চিত করে।
পুরো ফল খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে যা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়, কিন্তু ফলের রস সেই তৃপ্তির অনুভূতি দিতে পারে না।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন হঠাৎ রক্তে শর্করা খুব কমে গেলে বা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত গ্লুকোজ বাড়াতে ফলের রস ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এটি কেবল চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে।
নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডালিম, আপেল (খোসাসহ), বেরি, পেয়ারা, চেরি ও কমলার মতো কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত ফল রাখা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে সহায়ক। পেঁপে ও তরমুজও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডায়াবেটিস থাকলে ফল জুস না করে পুরো অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে যেকোনো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
