ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
যে সময়ে ঘুমালে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

যে সময়ে ঘুমালে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

নিয়মিত দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া মানুষের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতজাগা বা তথাকথিত ‘নাইট আউল’দের মধ্যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ভোরে ঘুম থেকে ওঠা মানুষের চেয়ে বেশি।

গবেষণায় প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ৩৯ থেকে ৭৪ বছর। প্রায় ১৪ বছর ধরে তাদের ঘুমের অভ্যাস ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকেরা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত ‘লাইফস এসেনশিয়াল এইট’ সূচক ব্যবহার করে হৃদ্‌স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করেন। এতে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, ঘুমের মান, শরীরের ওজন, রক্তে চর্বি, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ এই আটটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিজেদের রাতজাগা মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং যাদের স্বাস্থ্যসূচক তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাড়তি ঝুঁকির পেছনে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, কম শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত ওজন ও অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করা। তবে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঝুঁকির কারণ পরিসংখ্যানগতভাবে আলাদা করে বিবেচনা করলে দেখা যায় শুধু দেরিতে ঘুমানোই সরাসরি হৃদ্‌রোগের কারণ নয় বরং এটি একটি সূত্র।

ঘুমের সময় হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে আসে, যা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

গবেষকদের পরামর্শ, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখা গেলে রাতজাগা অভ্যাসজনিত ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ