লক্ষ্মীপুরে আড্ডা ও স্মৃতিচারণে জমে উঠে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের মিলন মেলা

ষাটোর্ধ্ব শতাধিক পুরুষদের নিয়ে লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হলো প্রবীণ মেলা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলার পশ্চিম গোপীনাথপুরে অর্ধদিনব্যাপী এ মেলা হয়। খেলাধুলা, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে জমে উঠে মিলন মেলা প্রাঙ্গণ।
সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ৫০ উর্ধ্ব আমরা ক’ জন নামীয় একটি সংগঠন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। বিগত ২০২১ সাল থেকে স্থানীয় বৃদ্ধদের নিয়ে মিলন মেলা করে আসছে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আলমাছ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ছায়েদুর রহমান ছায়েদ’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি মন্ত্রাণালয়ের কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ মানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, ব্যবসায়ী বাহার উদ্দিন পাটোয়ারী, মমিন পাটোয়ারী, জাকির হোসেন, সুভাষ বাবু, মোক্তার পাটোয়ারী, কৃষ্ণ দেবনাথ, নান্নু পাটোয়ারী সহ আরও অনেকে।
অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, মিলন মেলায় আসতে পেরে খুব খুশি লাগছে। বন্ধুদের ও বড় এবং ছোট ভাইদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পেরেছি। ছোটবেলার মতো একত্রে খেলাধুলা ও স্মৃতিচারণ করেছি। তবে খারাপও লাগছে। কারণ গেল বছরে আমরা যারা অংশ নিয়েছিলাম তাদের মধ্যে থেকে অনেক মুরুব্বি মারা গেছেন। অথচ তখন ওই অনুষ্ঠানে একসাথে খাওয়া-দাওয়া করেছি। এবছর এসে তাদের আর পেলাম না।
আরও বলেন, এই আয়োজনে অংশ নিতে পারা এক অন্যরকম অনুভূতি। এক সাথে এত সমবয়সি মানুষের দেখা হওয়া খুবই ভাগ্যের বেপার। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে যেন এধরণের প্রোগ্রাম করা হয়, সেজন্য আয়োজকদের অনুরোধ জানান।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে অহরহ শোনা যায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে সন্তানরা। বৃদ্ধাশ্রমে রেখে দেয়। মৃত্যুর পরে মরদেহ নিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। মনে হয় বৃদ্ধ বাবা-মা তাদের একটু সহানুভূতি আদর ভালবাসা পাবার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এই গ্রামের যুবকরা বৃদ্ধদের নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছে কয়েক বছর ধরে।
আরও বলেন, বৃদ্ধদের ন্যায় পশ্চিম গোপীনাথপুরের যুবক-যুবতী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে, মাদক নির্মূল হবে। উন্নয়ন ঘটবে এলাকার। এতে দক্ষিণ হামছাদী নয় লক্ষ্মীপুরের মধ্যে একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে পশ্চিম গোপীনাথপুর।
মিলন মেলা শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারিকে কম্বল উপহার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া, আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকার পরেও, সন্তানদের স্নাতক পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এরকম গর্বিত ৬ মা’কে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
