Friday,  Oct 19, 2018   9 PM
Untitled Document Untitled Document
সংবাদ শিরোনাম: •লক্ষ্মীপুরে মাদক ব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, বিপাকে শিক্ষক •রামগঞ্জে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বলাৎকার; অভিভাবকগণ আতঙ্কে •রামগঞ্জে ক্ষুদে মেসি: ৪ ম্যাচে ৯ গোল! •পশুর সাথে শত্রুতা- অল্পের জন্য রক্ষা! •একজন যোগ্য শিক্ষকের হাত ধরে তৈরি হয় একজন সু-নাগরিক...... ড. আনোয়ার হোসেন খাঁন •রামগঞ্জে রমজান উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত •লক্ষ্মীপুরে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Untitled Document

স্বাধীনতার ৪৭ বছর: স্বামীর পথ চেয়ে বৃদ্ধ স্ত্রী লতিফা এখনো কাঁদছেন

তারিখ: ২০১৭-০২-১১ ১৮:২২:৫৬  |  ১৩০২ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাবারে কাঁদতে কাঁদতে এখন অন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। বঙ্গবন্ধুকে বড় বেশি ভালবাসতেন আমার স্বামী সোলায়মান। ৭মার্চ ভাষনের পর সে-ই যে বাড়ী থেকে বের হলো আর ফিরে আসেনি আমাদের মাঝে। আদৌ তিনি বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন তার কোন সঠিক খবর এতদিনেও পাইনি। মৃত্যুর আগে অন্তত জেনে যেতে চাই তিনি বেঁচে আছেন অথবা মারা গেছেন। না হলে কবরে গেলেও শান্তি পাবো না। যুদ্ধের পর কত জায়গা গেছি অবুঝ তিন সন্তানকে নিয়ে। স্বামীর খোজ পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কেউই কোন খবর দিতে পারেনি। যুদ্ধে যাওয়ার আগে কত হাতে পায়ে ধরেছি, কান্নাকাটি করেছি কিন্তু তিনি কারো কথা শুনেননি। যুদ্ধে যাবেনই।
কথাগুলো বলতে বলতে এক পর্যায়ে হাঁফিয়ে উঠেছেন ১৯৭১ সনের স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়ে আর ফিরে না আসা মোঃ সোলায়মানের স্ত্রী লতিফা বেগম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাউধেরখীল নাইত বাড়ীর (বর্তমান মোল্লা বাড়ী) আবদুল মালেকের ছেলে মোঃ সোলায়মান তৎকালীন  ইষ্ট পাকিস্তান রোড ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী (ই.পি.আর.টি.সি) যা বর্তমানে বি.আর.টি.সির অধীনে ঢাকার কল্যাণপুরে গাড়ীর কন্ট্রাকটর হিসাবে কর্মরত থাকাকালীন দেশে যুদ্ধের ডামাঢোল বেজে উঠে।
এসময় মোঃ সোলায়মান স্ত্রী লতিফা বেগম ও অবুঝ তিন সন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ীতে চলে আসেন। বাড়ীতে আসার কয়েকদিন পরেই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠে ভেসে আসে “ এবারের সংগ্রাম-আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
৩৫ বছরের তরুন মোঃ সোলায়মানের রক্তে আগুন ধরে যায়। তিনিও যুদ্ধে যাওয়ার পণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কয়েকদিন পরেই এপ্রিলের ২য় সপ্তাহর কোন এক বৃহস্পতি অথবা শুক্রবার মোঃ সোলায়মান বাবা আবদুল মালেকের কাছে জানান, তিনি যুদ্ধে যাবেন। বাড়ীতে দেখা দেয় কান্নার রোল। ছেলের ভবিষ্যত চিন্তা করে বাবা পাগলপ্রায়, স্বামীর জন্য অজানা আশঙ্কায় স্ত্রী লতিফা বেগম ও বড় মেয়ে সাজেদা বেগম এক পর্যায়ে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করতে থাকেন। কিন্তু কোন কিছুই ধমাতে পারেনি যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া মোঃ সোলায়মানকে। অবশেষে আবারো তিনি ঢাকায় চলে যান। ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনীর উপর।
দীর্ঘ নয়মাস স্বামীর কোন খোজ পাননি স্ত্রী ও তার অবুঝ সন্তানরাসহ বাবা-মা।
যুদ্ধ শেষ, এলো বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু স্বামী সোলায়মানের কোন খোজ নেই। যুদ্ধে কেউ স্বামীহারা হয়েছে, কেউ বা সন্তানহারা। সবার খোজই মিলছে, শুধু খোজ নেই সোলায়মানের। স্বামীর খোজে বেশ কয়েকবার তিনি ঢাকায় গেছেন। খোজ করেছেন যেখানে তার কর্মস্থল ছিলো। কিন্তু কেউই স্বামী সোলায়মান মিয়ার খোজ দিতে পারেন নি। ফিরে আসেন বাড়ীতে। ভাসুর আবদুল খালেককে (বর্তমানে মৃত) কানের দুল বিক্রি করে আবারো পাঠান ঢাকায়। কিন্তু স্বামী সোলায়মান মিয়ার খোজ পাননি স্ত্রী।
মোঃ সোলায়মানের বাবা ছেলের শোকে কাঁদতে কাঁদতে মারা যান। বড় মেয়ে সাজেদাও মারা গেছেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। স্বামীর পথের দিকে তাঁকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে লতিফা বেগমও এখন সত্তর বছরের বৃদ্ধা। না খেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দুই সন্তান মফিজুল ইসলাম ও মেয়ে শাহনাজ বেগমকে নিয়ে আজও তিনি স্বামীর পথ চেয়ে আছেন। ছেলে রামগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও মেয়ে শাহনাজ বেগমও অসুস্থ। বৃদ্ধা লতিফা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বাবারে আমি কোনদিনও কি আমার স্বামীর খোজ পাবো না?
যুদ্ধের পর ৪৭টি বছর কেটে গেলেও আজও আমি আমার স্বামীর খোজ পাইনি। তিনি আদৌ বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন। তা যদি আমার মৃত্যুর আগে জানতে না পারি তাহলে কবরেও শান্তি পাবো না।
নিখোঁজ মোঃ সোলায়মানের গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আমির হোসেন (৬৫) জানান, আমরা জানি তিনি যুদ্ধের সময় পরিবার পরিজন গ্রামের বাড়ীতে রেখে গেছেন। আজও তিনি ফিরে আসেনি।
একই এলাকার আবদুর রহমান (৭০) জানান, সোলায়মানসহ আমরা ঢাকায় থাকতাম। যুদ্ধের সময় তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।
মোঃ সোলায়মানের মামা আমিনুল ইসলাম (৮০) জানান, আমার ভাগিনা সোলায়মান যুদ্ধে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কত জায়গায় খুজেছি, আজও তার কোন সন্ধান পাইনি। সোলায়মানের শোকে তার পরিবার আজও কান্নাকাটি করেন। একবার খবর পেয়েছি তাকেসহ অন্যমুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণপুরের কোন এক স্থানে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সেখানেও গেছি, কোন সন্ধান পাইনি।
রামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু জানান, আমরাও জানি তিনি যুদ্ধে গেছেন, তবে কোন ইউনিটের তত্বাবধানে যুদ্ধে গেছেন তা আমরা জানিনা। আমরা জানি তিনি ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তার পরিবার তার সন্ধানে কত জায়গায় হন্যে হয়ে খুজেছেন। আমরাও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি তার সন্ধান করতে, পাইনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•রামগঞ্জে সোনালী ব্যাংক: ব্যবস্থাপকের অনিয়মে চরম ভোগান্তি পেনশনভোগীদের •রামগঞ্জে ভাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন •শিক্ষাখাতে জেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন রামগঞ্জ উপজেলার •ঢাকাস্থ রামগঞ্জ উপজেলা সমিতির সভাপতি আনোয়ার খাঁন সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার সাংগঠনিক পিন্টু •রামগঞ্জ করপাড়া কলেজের জন্য এলডিপি নেতার জমি দান •লক্ষ্মীপুরে হানাদার মুক্ত দিবসে র‌্যালি ও আলোচনাসভা •চিরনিদ্রায় সমাহিত জিয়াউল হক জিয়া
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

  • Top
    Untitled Document