Sunday,  Oct 21, 2018   11:36 AM
Untitled Document Untitled Document
সংবাদ শিরোনাম: •লক্ষ্মীপুরে মাদক ব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, বিপাকে শিক্ষক •রামগঞ্জে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বলাৎকার; অভিভাবকগণ আতঙ্কে •রামগঞ্জে ক্ষুদে মেসি: ৪ ম্যাচে ৯ গোল! •পশুর সাথে শত্রুতা- অল্পের জন্য রক্ষা! •একজন যোগ্য শিক্ষকের হাত ধরে তৈরি হয় একজন সু-নাগরিক...... ড. আনোয়ার হোসেন খাঁন •রামগঞ্জে রমজান উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত •লক্ষ্মীপুরে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Untitled Document

সৈয়দ হাফেজ তন্নুরী তাওয়াক্কুলী শাহ মিরান (র) এর বসতি : কয়েক’শ বছরের স্থাপত্য ভেসে উঠলো পুকরের তলদেশ থেকে !

তারিখ: ২০১৭-০১-২৯ ১৬:৫৭:৩৬  |  ১২৯৫ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

লক্ষ্মীপুর নিউজ ২৪ ডট কম, ২৯ জানুয়ারী, মাহমুদ ফারুক: শত শত বছর পূর্বে নির্মিত হযরত শাহমিরান (র) এর তৈরি করা স্থাপত্য হটাৎই ভেসে উঠলো পুকুরের তলদেশ থেকে। পুকুরের পানি সেচ করে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়দের কাছে প্রকাশ হয় ইট-সুরকি দিয়ে তৈরি করা ঘাটলার অস্তিত্ব। প্রথমে সবাই ভয় পেলেও পরে গ্রামের মুরুব্বীরা হযরত শাহমিরান (র) এর সময়কার নির্মিত ঘাটলা ও বসতির কথা সবাইকে জানালে ভয় অনেকটা দুর হলেও উক্ত পুকুর নিয়ে বেশ কিছু ঘটনা তাদেরকে অনেকটা ভয়ের মাঝেই রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, বুধবার (২৫ জানুয়ারী) রামগঞ্জ পৌর শহরের সোনাপুর বাঘের ভিতরের (ওয়াপদা সড়ক সংলগ্ন) আমির উদ্দিন ব্যপারী বাড়ীর পুকুরটিতে স্থানীয় লোকজন পানি সেচ করে মাছ ধরতে নামেন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজনদের পায়ে শক্ত কিছুর অস্তিত্ব টের পেয়ে সবাই উঠে পড়েন। পরে বেশ কিছু বয়স্ক লোক হযরত শাহ মিরান (র) এর একসময়কার বসতির কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিলে লোকজন পূনরায় মাছ ধরে পুকুরের উত্তর পাড় কোদাল দিয়ে পরিস্কার করে ইট ও সুরকি দিয়ে নির্মিত একটি ঘাটলা ও সমান্তরাল একটি ফ্লোরের (মেঝে) সন্ধান পান। দ্রুত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুর-দুরান্ত ছুটে আসে লোকজন।
প্রথমে বিশ্বাস না হলেও পরে ঘঠনাস্থলে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়।
এসময় স্থানীয় লোকজন, বয়স্ক লোক ও ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়,  কাছ থেকে জানা যায়, ৭৫৫ হিজরী মোতাবেক ৭৪৩ বাংলা সনে হযরত শাহমিরান (র) বাংলাদেশে আসেন। প্রথমে তিনি ও তার অনুসারীগণ নোয়াখালীর এ অঞ্চলের প্রথমে আসেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাকের রুপাবাগে। সেখানে বেশ কয়েকদিন থেকে তিনি চলে আসেন, রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের এক ভয়াবহ জঙ্গলে ভরা এলাকায় (বাঘে)। এখানে আসার পর তিনি ও তার অনুসারীরা বাঘের গর্জনে নিয়মিত ইবাদত করতে পারতেন না। (একাংশ বর্তমান বাশঘর) ঘন জঙ্গলে ঘেরা স্থানটিতে ছিলো মানুষখেকো বাঘে পরিপূর্ণ। হযরত শাহমিরান (র) ও তার অনুসারীগণ সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে ৭টি পুকুর কাটেন।
যার একটি হলো মিঠা পুুকুর। এ পুকুরের পানি দুর-দুরান্ত লোকজন এসে লাঠির মাথায় পাত্র বেঁেধ নিতো। নিয়ত করে পুকুরের পানি পান করতো। জনশ্রুতি রয়েছে, কোন লোকজন ওজু করা ছাড়া পুকুরটিতে নামতে পারতো না। এমনকি অপবিত্র অবস্থায় পুকুরে নামলে পুকুর থেকে উঠতো পারতো না। আমির উদ্দীন ব্যপারী বাড়ী সংলগ্ন এ পুকুরেই রয়েছে তৎকালীন সময়ে নির্মিত দুইটি ঘাটলা ও মেঝে। যা বুধবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে দেখেন, স্থানীয় লোকজন।
এছাড়াও মিঠা পুকুরের রয়েছে অনেক অনেক ঘটনা। ৯৫ বয়সী সেকান্তর মিয়া জানান, পাশ্ববর্তি অঞ্চলের বিয়ে-কুলখানীর আয়োজন করা হলে এ পুকুরের পাড়ে কিছুতে লিখে থালা-বাসন, হাঁড়ি-পাতিলসহ তৈজসপত্রের জন্য আবেদন করলে পরদিন ভোর সোনার তৈরি জিনিসপত্র পুকুরের পাড়ে চলে আসতো।
কোন একজন দাসী একদিন অনুষ্ঠান থেকে একটি সোনার বাসন নিয়ে লুকিয়ে ফেলার কারনে আর কখনো কোন জিনিসপত্র ভেসে উঠেনি।
এয়াড়া উক্ত পুকুরে পানি ব্যবহারেও রয়েছে নানান সর্তকতা। পুুকুরের পানি ব্যবহার, মাটি নিয়ে বসতঘর নির্মান করতে গিয়েও অনেকই বিভিন্নভাবে বিপদগ্রস্থ হয়েছেন। সর্বশেষ ঐ বাড়ীর রুনু নামের এক অষ্টাদশী মেয়ে পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে আর উঠে আসেনি। অনেক শিশুই ডুবে মারা গেছে পুকুরটিতে ডুবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আশপাশের লোকজন জানান, মানুষ হুজুরদের (হযরত শাহ মিরান র.) যথাযথ সন্মান না করার কারনেই ঐ বাড়ীর লোকজনদের বিপদ আপদ ছেড়ে যাচ্ছেনা।
পাশ্ববর্তি কিয়ামুদ্দিন হাজী বাড়ীর ভিতরে রয়েছে “পুরো পুকুর”। এ পুকুরটি কখনো শুকাতো না। এ পুকুরটিতে পানি কোন কারনে কমে গেলে পরদিন আবারো পুরিয়ে যেত। যার কারনে পুকুরটির নাম পুরো পুকুর।
মুন্সী বাড়ীতে রয়েছে “কোদাল ধোয়া পুুকুর” এ পুকুরটি চাষাবাদসহ যাবতীয় গৃহস্থলি কাজ সেরে ধোয়ার কাজ সম্পর্ণ করার কারনেই পুকুরটির নাম কোদাল ধোয়া পুকুর।
সুতারবাড়ীতে রয়েছে “ছুরি ধোয়া পুকুর)। হযরত শাহমিরান (র) এর সময়ে পশু জবাই করার পর এ পুকুরটিতে ছুরি (দারালো অস্ত্র) ধোয়ার জন্য ব্যবহার হতো।
মিঠাপুকুরের পাশেই রয়েছে “গোলা পুকুর”। এখানে প্রতিনিয়ত ভেসে উঠতো নারিকেল-সুপারীসহ শাহমিরান (র) এর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
“আজুনি পুকুর” রয়েছে পাশ্ববর্তি বাশঘর গ্রামের মহাদড় বাড়ীর পাশে। কি কারনে এমন নাম তার ব্যপারে কেউ জানাতে পারেননি।
ধারনা করা হচ্ছে, স্থানীয় ভাষায় কথা বলার কারনেই হয়তো নামের বিকৃতি হয়েছে।
আরেকটি পুকুরের হিসাব কেউ দেখাতে না পারলেও একটি নালা বা ড্রেনের (স্থানীয় ভাষায় গড়) কথা বলেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, তৎকালীন মোঘল আমলে ভারত ঘেষা উপমহাদেশীয় অঞ্চলে মুসলমানরা ছিলেন অন্ধকারে নিমর্জিত, নির্যাতিত আর অবহেলিত। এবং ধর্মের ব্যপারে ছিলো উদাসীন। ঠিক সেই সময়ে মুসলমানদের আলোকবর্তিতা ও মুসলিম ধর্ম প্রচারের জন্য শত শত বছর পূর্বে সূদুর বর্তমান ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে হযরত শাহজালাল (র) এর নেতৃত্বে এ উপমহাদেশে যে ৬০জন পীর-ওলি, গাউস-কুতুব, ফকির-দরবেশ আগমন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, হযরত বড় পীর (র) এর ছেলে সৈয়দ আজাল্লা শাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি (র) এর ছেলে সৈয়দ হাফেজ আহাম্মদ তন্নুরী তাওয়াকুল্লী শাহ মিরান (র)।
রামগঞ্জস্থ তার বংশধর ও অনুসারীদের বংশধরদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শাহ মিরান (র) এ উপমহাদেশে আগমন করেন ৫২৫ হিজরীতে। এসময় ছোট বোন সৈয়দা সালেহা মাজ্জুবা বিবি (মঞ্জুমা বিবি) রাহমাতুল্লাহি আলাইহাসহ সফর সঙ্গী ছিলো ১২জন। তিনি প্রথমে উঠেন, দিল্লির তৎকালীন বাদশা ফিরোজ শাহ’র দরবারে। তিনি সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর তাদের মাজেজার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শাহী দরবারের আওতাভূক্ত মসজিদের ইমাম নিজেকে অনেক বড় পীর দাবী করে নিজেকে আসল সৈয়দ বলে ঘোষণা করেন। এবং তিনি শাহ মিরান (র) কে জাদুকর বলে প্রচারনা চালায়। এ বিষয়টি এক পর্যায়ে বাড়াবাড়িতে রুপ নিলে ফিরোজ শাহ বিপাকে পড়েন। এমতবস্থায় তিনি শাহ মিরান (র) কে জানান কে প্রকৃত সৈয়দ তা প্রমান করুন।
শাহ মিরান (র) বাদশাহকে ডেকে পরামর্শ দেন দুটি বড় ডেকছিতে (হাঁড়ি) ঘি পরিপূর্ণ করে সেই ডেকছিতে দুইজনকে বসিয়ে উপরে ঢাকনা দিয়ে ভালো করে এঁটে নিচে আগুন দেয়া হোক। তবেই তার প্রমান পাওয়া যাবে।
এমন প্রস্তাব শুনে বাদশাহও খুব খুশি হলেন এবং সকল আয়োজন শুরু করলেন। যেই কথা সেই কাজ, আগুন দেয়ার এক সপ্তাহ পর যখন ঢাকনা খোলা হলো তখন শাহ মিরান (র) বুকে ছোট্ট একটি কোরআন শরীফ চেপে ডেকছি থেকে লাইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলতে বলতে বেরিয়ে আসেন।
অপরদিকে বেচারা ইমামের হাঁড় ছাড়া কিছুই পাওয়া গেলো না।
এ ঘটনার সাথে সাথে বাদশাহ ফিরোজ শাহ মিরান (র) এর পায়ে লুটিয়ে পড়ে সেখানে থেকে যাবার অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাক্ষাণ করে বলেন, আমি যেখানে (বঙ্গদেশ) যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি সেখানেই যাবো।
এসময় তিনি বাদশাহর কয়েদখানায় বন্দীদের মুক্তি দেয়ার জন্য ফিরোজ শাহকে অনুরোধ করেন।
এরপর তিনি ৭৫৫ হিজরী মোতাবেক ৭৪৩ (বাং) বঙ্গদেশে আগমন করেন। প্রথমে তিনি ও তার অনুসারীগণ নোয়াখালীর এ অঞ্চলের প্রথমে আসেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাকের রুপাবাগে। সেখানে বেশ কয়েকদিন থেকে তিনি চলে আসেন, রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের এক ভয়াবহ জঙ্গলে ভরা এলাকায় (বাঘে)। এখানে আসার পর তিনি ও তার অনুসারীরা বাঘের গর্জনে নিয়মিত ইবাদত করতে পারতেন না। (একাংশ বর্তমান বাশঘর) ঘন জঙ্গলে ঘেরা স্থানটিতে ছিলো মানুষখেকো বাঘে পরিপূর্ণ। ফলে পরবর্তিতে তিনি সোনাপুর গ্রামের বাঘের ভিতরের আবাসস্থল ছেড়ে বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলার ১নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের দিকে দৃষ্টি দেন। তৎকালীন সময়ে এ এলাকার পুরোটাই ছিলো নদী। যা “কাঞ্চন নদী” নামে পরিচিত ছিলো।
কাঞ্চন নদীতে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে স্থানীয়রা মাছ ধরতো। যা দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করতো। একদিন এক জেলেকে শাহ মিরান (র) নদী পার করে দেয়ার অনুরোধ করলে জেলে উক্ত নৌকায় দুইজন উঠলে ডুবে যাবে বলে জানান। অনেক অনুরোধের পর যখন তিনি নৌকায় চড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের গতিতে তিনি পৌছে গেলেন অপর পাড়ে। এতে তার আধ্মাতিক ক্ষমতার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তিতে তিনি আল্লাহপাকের কাছে হাত তুলে দোয়ার করার পর বর্তমানে কাঞ্চনপুর এলাকায় বর্তমানে চৌধুরী বাজার এলাকায় জেগে উঠে বিশাল চর।
আস্তানা গড়ে তুলে সেখান থেকে আল্লাহপাকের ইবাদত বন্দেগী ও ইসলাম প্রচার শুরু করেন। অল্প কয়েকদিন মধ্যেই তার সাধনা, পরোপকারিতা এবং অলৌকিক ক্ষমতার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এবং দলে দলে মুসলমান হতে থাকেন।
এ মহান পীর ইসলাম সাধক হযরত শাহ মিরান (র) কবে নাগাদ ইহলোক ত্যাগ করেন তা কেউই সঠিকভাবে জানাতে পারেন নি। কাঞ্চনপুরস্থ হযরত শাহ মিরান (র) এর মাজার শরীফ (দরগা বাড়ী) গিয়ে দেখা যায়, মাজারের উত্তর পাশে একটি পুকুর রয়েছে। যা মিঠা পুকুর নামে পরিচিত। তৎকালীন সময়ে স্থানীয়দের পানির অভাব দুর করতে অলৌকিকভাবে তৈরি হয় এ মিঠা পুকুরটি। পুকুরের পূর্ব পাড় ঘেষে শাহ মিরান (র) এর হাতে রোপন করা একটি ফল গাছ (ডেপ ফল) ও একটি বকুল ফুল গাছ। এবং পুকুরের পূর্ব পাড় ঘেষে রয়েছে ছোট বোন সৈয়দা মাজ্জুবা বিবি (মঞ্জুমা বিবি)র মাজার শরীফ ও তার পশ্চিম পাশে রয়েছে অলৌকিক বাঁশঝাড়। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন নিয়ত মানত করে বাঁশঝাড়ে সুতা বেঁেধ আল্লাহপাকের দরবারে মনোবাসনা ব্যক্ত করতেন।
সৈয়দ পরিবারের বেশ কয়েকজন জানান, শাহ মিরান (র) এর হাতে লাগানো ডেপ ফল গাছটিতে বছরে একবার ফল ধরে। এ ফল নিয়ত করে খেলে মানুষ বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পান।
এছাড়া বকুল ফুল গাছটিতে বছরে মাত্র ফুল ধরে একটি। যার ভাগ্য ভালো তিনিই এ ফুলটি পান।
এছাড়া শাহ মিরান (র) এর হাতের লাঠি থেকে তৈরি বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে অনেকেই ফসলের ক্ষেতে ও ঘরে রেখে দিচ্ছেন ।
প্রতি বছর অগ্রহায়ন মাসের ১১ তারিখে এ মহান পীরের ২দিন ব্যপী ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। তবারকের জন্য অসংখ্য গরু-মহিষ, ছাগলসহ ধান-চাল দান করেন ভক্তরা।
পীরে পীর সৈয়দ হাফেজ আহাম্মদ তন্নুরী তাওয়াকুল্লি শাহ-মিরান (র) এর স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় সরকারীভাবে ব্যপক উদ্যেগ গ্রহন এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

হযরত শাহমিরান (র) এর বংশধর:
আমিরুল মুমেনিন সৈয়দ হযরত আলী (করমুল্লাহ)
আমিরুল মুমেনিন সৈয়দ হযরত ইমাম হাসান (রাদিআল্লাহ আনহু)
সৈয়দ হাসান আল মাসনা (র)
সৈয়দ আব্দুল আল মাহাজ (র)
সৈয়দ মুসা আল জরন (র)
সৈয়দ মুসা সানি (র)
সৈয়দ দাউদ (র)
সৈয়দ মুহাম্মদ (র)
সৈয়দ ইয়াহিয়া আল জায়েদ (র)
সৈয়দ আবি আব্দুল্লাহ (র)
সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জঙ্গি (র)
সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (র)
সৈয়দ আজাল্লা শাহ (র)
সৈয়দ হাফেজ আহাম্মদ তন্নুরী তাওয়াকুল্লি শাহ মিরান (র) বড় মাজার, কাঞ্চনপুর, রামগঞ্জ
সৈয়দ শাহ মাখদুম রূপোষ (র) রাজশাহী
সৈয়দ শাহ মুনির (র)
সৈয়দা সালেহা মাজ্জুবা বিবি (মঞ্জুমা বিবি) ছোট মাজার, কাঞ্চনপুর রামগঞ্জ।    

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে পাওয়া ঘটনাপুঞ্জী ঘেঁেট ভাষাগত ত্রুটি ও উল্লেখযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় এখানেই শাহ মিরান (র) এর কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।

বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছেন, লোকমান হোসেন বাবু ও আরিফ হোসেন  মিয়া, আবুল কালামসহ অনেকেই।

মাহমুদ ফারুক... ২৯-১-২০১৭ইং।

























































































































































































































































































































সৈয়দ হাফেজ তন্নুরী তাওয়াক্কুলী শাহ মিরান (র) এর বসতি
কয়েক’শ বছরের স্থাপত্য ভেসে উঠলো পুকরের তলদেশ থেকে !

লক্ষ্মীপুর নিউজ ২৪ ডট কম, ২৯ জানুয়ারী, মাহমুদ ফারুক: শত শত বছর পূর্বে নির্মিত হযরত শাহমিরান (র) এর তৈরি করা স্থাপত্য হটাৎই ভেসে উঠলো পুকুরের তলদেশ থেকে। পুকুরের পানি সেচ করে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়দের কাছে প্রকাশ হয় ইট-সুরকি দিয়ে তৈরি করা ঘাটলার অস্তিত্ব। প্রথমে সবাই ভয় পেলেও পরে গ্রামের মুরুব্বীরা হযরত শাহমিরান (র) এর সময়কার নির্মিত ঘাটলা ও বসতির কথা সবাইকে জানালে ভয় অনেকটা দুর হলেও উক্ত পুকুর নিয়ে বেশ কিছু ঘটনা তাদেরকে অনেকটা ভয়ের মাঝেই রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, বুধবার (২৫ জানুয়ারী) রামগঞ্জ পৌর শহরের সোনাপুর বাঘের ভিতরের (ওয়াপদা সড়ক সংলগ্ন) আমির উদ্দিন ব্যপারী বাড়ীর পুকুরটিতে স্থানীয় লোকজন পানি সেচ করে মাছ ধরতে নামেন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজনদের পায়ে শক্ত কিছুর অস্তিত্ব টের পেয়ে সবাই উঠে পড়েন। পরে বেশ কিছু বয়স্ক লোক হযরত শাহ মিরান (র) এর একসময়কার বসতির কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিলে লোকজন পূনরায় মাছ ধরে পুকুরের উত্তর পাড় কোদাল দিয়ে পরিস্কার করে ইট ও সুরকি দিয়ে নির্মিত একটি ঘাটলা ও সমান্তরাল একটি ফ্লোরের (মেঝে) সন্ধান পান। দ্রুত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুর-দুরান্ত ছুটে আসে লোকজন।
প্রথমে বিশ্বাস না হলেও পরে ঘঠনাস্থলে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়।
এসময় স্থানীয় লোকজন, বয়স্ক লোক ও ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়,  কাছ থেকে জানা যায়, ৭৫৫ হিজরী মোতাবেক ৭৪৩ বাংলা সনে হযরত শাহমিরান (র) বাংলাদেশে আসেন। প্রথমে তিনি ও তার অনুসারীগণ নোয়াখালীর এ অঞ্চলের প্রথমে আসেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাকের রুপাবাগে। সেখানে বেশ কয়েকদিন থেকে তিনি চলে আসেন, রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের এক ভয়াবহ জঙ্গলে ভরা এলাকায় (বাঘে)। এখানে আসার পর তিনি ও তার অনুসারীরা বাঘের গর্জনে নিয়মিত ইবাদত করতে পারতেন না। (একাংশ বর্তমান বাশঘর) ঘন জঙ্গলে ঘেরা স্থানটিতে ছিলো মানুষখেকো বাঘে পরিপূর্ণ। হযরত শাহমিরান (র) ও তার অনুসারীগণ সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে ৭টি পুকুর কাটেন।
যার একটি হলো মিঠা পুুকুর। এ পুকুরের পানি দুর-দুরান্ত লোকজন এসে লাঠির মাথায় পাত্র বেঁেধ নিতো। নিয়ত করে পুকুরের পানি পান করতো। জনশ্রুতি রয়েছে, কোন লোকজন ওজু করা ছাড়া পুকুরটিতে নামতে পারতো না। এমনকি অপবিত্র অবস্থায় পুকুরে নামলে পুকুর থেকে উঠতো পারতো না। আমির উদ্দীন ব্যপারী বাড়ী সংলগ্ন এ পুকুরেই রয়েছে তৎকালীন সময়ে নির্মিত দুইটি ঘাটলা ও মেঝে। যা বুধবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে দেখেন, স্থানীয় লোকজন।
এছাড়াও মিঠা পুকুরের রয়েছে অনেক অনেক ঘটনা। ৯৫ বয়সী সেকান্তর মিয়া জানান, পাশ্ববর্তি অঞ্চলের বিয়ে-কুলখানীর আয়োজন করা হলে এ পুকুরের পাড়ে কিছুতে লিখে থালা-বাসন, হাঁড়ি-পাতিলসহ তৈজসপত্রের জন্য আবেদন করলে পরদিন ভোর সোনার তৈরি জিনিসপত্র পুকুরের পাড়ে চলে আসতো।
কোন একজন দাসী একদিন অনুষ্ঠান থেকে একটি সোনার বাসন নিয়ে লুকিয়ে ফেলার কারনে আর কখনো কোন জিনিসপত্র ভেসে উঠেনি।
এয়াড়া উক্ত পুকুরে পানি ব্যবহারেও রয়েছে নানান সর্তকতা। পুুকুরের পানি ব্যবহার, মাটি নিয়ে বসতঘর নির্মান করতে গিয়েও অনেকই বিভিন্নভাবে বিপদগ্রস্থ হয়েছেন। সর্বশেষ ঐ বাড়ীর রুনু নামের এক অষ্টাদশী মেয়ে পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে আর উঠে আসেনি। অনেক শিশুই ডুবে মারা গেছে পুকুরটিতে ডুবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আশপাশের লোকজন জানান, মানুষ হুজুরদের (হযরত শাহ মিরান র.) যথাযথ সন্মান না করার কারনেই ঐ বাড়ীর লোকজনদের বিপদ আপদ ছেড়ে যাচ্ছেনা।
পাশ্ববর্তি কিয়ামুদ্দিন হাজী বাড়ীর ভিতরে রয়েছে “পুরো পুকুর”। এ পুকুরটি কখনো শুকাতো না। এ পুকুরটিতে পানি কোন কারনে কমে গেলে পরদিন আবারো পুরিয়ে যেত। যার কারনে পুকুরটির নাম পুরো পুকুর।
মুন্সী বাড়ীতে রয়েছে “কোদাল ধোয়া পুুকুর” এ পুকুরটি চাষাবাদসহ যাবতীয় গৃহস্থলি কাজ সেরে ধোয়ার কাজ সম্পর্ণ করার কারনেই পুকুরটির নাম কোদাল ধোয়া পুকুর।
সুতারবাড়ীতে রয়েছে “ছুরি ধোয়া পুকুর)। হযরত শাহমিরান (র) এর সময়ে পশু জবাই করার পর এ পুকুরটিতে ছুরি (দারালো অস্ত্র) ধোয়ার জন্য ব্যবহার হতো।
মিঠাপুকুরের পাশেই রয়েছে “গোলা পুকুর”। এখানে প্রতিনিয়ত ভেসে উঠতো নারিকেল-সুপারীসহ শাহমিরান (র) এর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
“আজুনি পুকুর” রয়েছে পাশ্ববর্তি বাশঘর গ্রামের মহাদড় বাড়ীর পাশে। কি কারনে এমন নাম তার ব্যপারে কেউ জানাতে পারেননি।
ধারনা করা হচ্ছে, স্থানীয় ভাষায় কথা বলার কারনেই হয়তো নামের বিকৃতি হয়েছে।
আরেকটি পুকুরের হিসাব কেউ দেখাতে না পারলেও একটি নালা বা ড্রেনের (স্থানীয় ভাষায় গড়) কথা বলেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, তৎকালীন মোঘল আমলে ভারত ঘেষা উপমহাদেশীয় অঞ্চলে মুসলমানরা ছিলেন অন্ধকারে নিমর্জিত, নির্যাতিত আর অবহেলিত। এবং ধর্মের ব্যপারে ছিলো উদাসীন। ঠিক সেই সময়ে মুসলমানদের আলোকবর্তিতা ও মুসলিম ধর্ম প্রচারের জন্য শত শত বছর পূর্বে সূদুর বর্তমান ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে হযরত শাহজালাল (র) এর নেতৃত্বে এ উপমহাদেশে যে ৬০জন পীর-ওলি, গাউস-কুতুব, ফকির-দরবেশ আগমন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, হযরত বড় পীর (র) এর ছেলে সৈয়দ আজাল্লা শাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি (র) এর ছেলে সৈয়দ হাফেজ আহাম্মদ তন্নুরী তাওয়াকুল্লী শাহ মিরান (র)।
রামগঞ্জস্থ তার বংশধর ও অনুসারীদের বংশধরদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শাহ মিরান (র) এ উপমহাদেশে আগমন করেন ৫২৫ হিজরীতে। এসময় ছোট বোন সৈয়দা সালেহা মাজ্জুবা বিবি (মঞ্জুমা বিবি) রাহমাতুল্লাহি আলাইহাসহ সফর সঙ্গী ছিলো ১২জন। তিনি প্রথমে উঠেন, দিল্লির তৎকালীন বাদশা ফিরোজ শাহ’র দরবারে। তিনি সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর তাদের মাজেজার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শাহী দরবারের আওতাভূক্ত মসজিদের ইমাম নিজেকে অনেক বড় পীর দাবী করে নিজেকে আসল সৈয়দ বলে ঘোষণা করেন। এবং তিনি শাহ মিরান (র) কে জাদুকর বলে প্রচারনা চালায়। এ বিষয়টি এক পর্যায়ে বাড়াবাড়িতে রুপ নিলে ফিরোজ শাহ বিপাকে পড়েন। এমতবস্থায় তিনি শাহ মিরান (র) কে জানান কে প্রকৃত সৈয়দ তা প্রমান করুন।
শাহ মিরান (র) বাদশাহকে ডেকে পরামর্শ দেন দুটি বড় ডেকছিতে (হাঁড়ি) ঘি পরিপূর্ণ করে সেই ডেকছিতে দুইজনকে বসিয়ে উপরে ঢাকনা দিয়ে ভালো করে এঁটে নিচে আগুন দেয়া হোক। তবেই তার প্রমান পাওয়া যাবে।
এমন প্রস্তাব শুনে বাদশাহও খুব খুশি হলেন এবং সকল আয়োজন শুরু করলেন। যেই কথা সেই কাজ, আগুন দেয়ার এক সপ্তাহ পর যখন ঢাকনা খোলা হলো তখন শাহ মিরান (র) বুকে ছোট্ট একটি কোরআন শরীফ চেপে ডেকছি থেকে লাইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলতে বলতে বেরিয়ে আসেন।
অপরদিকে বেচারা ইমামের হাঁড় ছাড়া কিছুই পাওয়া গেলো না।
এ ঘটনার সাথে সাথে বাদশাহ ফিরোজ শাহ মিরান (র) এর পায়ে লুটিয়ে পড়ে সেখানে থেকে যাবার অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাক্ষাণ করে বলেন, আমি যেখানে (বঙ্গদেশ) যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি সেখানেই যাবো।
এসময় তিনি বাদশাহর কয়েদখানায় বন্দীদের মুক্তি দেয়ার জন্য ফিরোজ শাহকে অনুরোধ করেন।
এরপর তিনি ৭৫৫ হিজরী মোতাবেক ৭৪৩ (বাং) বঙ্গদেশে আগমন করেন। প্রথমে তিনি ও তার অনুসারীগণ নোয়াখালীর এ অঞ্চলের প্রথমে আসেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাকের রুপাবাগে। সেখানে বেশ কয়েকদিন থেকে তিনি চলে আসেন, রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের এক ভয়াবহ জঙ্গলে ভরা এলাকায় (বাঘে)। এখানে আসার পর তিনি ও তার অনুসারীরা বাঘের গর্জনে নিয়মিত ইবাদত করতে পারতেন না। (একাংশ বর্তমান বাশঘর) ঘন জঙ্গলে ঘেরা স্থানটিতে ছিলো মানুষখেকো বাঘে পরিপূর্ণ। ফলে পরবর্তিতে তিনি সোনাপুর গ্রামের বাঘের ভিতরের আবাসস্থল ছেড়ে বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলার ১নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের দিকে দৃষ্টি দেন। তৎকালীন সময়ে এ এলাকার পুরোটাই ছিলো নদী। যা “কাঞ্চন নদী” নামে পরিচিত ছিলো।
কাঞ্চন নদীতে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে স্থানীয়রা মাছ ধরতো। যা দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করতো। একদিন এক জেলেকে শাহ মিরান (র) নদী পার করে দেয়ার অনুরোধ করলে জেলে উক্ত নৌকায় দুইজন উঠলে ডুবে যাবে বলে জানান। অনেক অনুরোধের পর যখন তিনি নৌকায় চড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের গতিতে তিনি পৌছে গেলেন অপর পাড়ে। এতে তার আধ্মাতিক ক্ষমতার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তিতে তিনি আল্লাহপাকের কাছে হাত তুলে দোয়ার করার পর বর্তমানে কাঞ্চনপুর এলাকায় বর্তমানে চৌধুরী বাজার এলাকায় জেগে উঠে বিশাল চর।
আস্তানা গড়ে তুলে সেখান থেকে আল্লাহপাকের ইবাদত বন্দেগী ও ইসলাম প্রচার শুরু করেন। অল্প কয়েকদিন মধ্যেই তার সাধনা, পরোপকারিতা এবং অলৌকিক ক্ষমতার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এবং দলে দলে মুসলমান হতে থাকেন।
এ মহান পীর ইসলাম সাধক হযরত শাহ মিরান (র) কবে নাগাদ ইহলোক ত্যাগ করেন তা কেউই সঠিকভাবে জানাতে পারেন নি। কাঞ্চনপুরস্থ হযরত শাহ মিরান (র) এর মাজার শরীফ (দরগা বাড়ী) গিয়ে দেখা যায়, মাজারের উত্তর পাশে একটি পুকুর রয়েছে। যা মিঠা পুকুর নামে পরিচিত। তৎকালীন সময়ে স্থানীয়দের পানির অভাব দুর করতে অলৌকিকভাবে তৈরি হয় এ মিঠা পুকুরটি। পুকুরের পূর্ব পাড় ঘেষে শাহ মিরান (র) এর হাতে রোপন করা একটি ফল গাছ (ডেপ ফল) ও একটি বকুল ফুল গাছ। এবং পুকুরের পূর্ব পাড় ঘেষে রয়েছে ছোট বোন সৈয়দা মাজ্জুবা বিবি (মঞ্জুমা বিবি)র মাজার শরীফ ও তার পশ্চিম পাশে রয়েছে অলৌকিক বাঁশঝাড়। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন নিয়ত মানত করে বাঁশঝাড়ে সুতা বেঁেধ আল্লাহপাকের দরবারে মনোবাসনা ব্যক্ত করতেন।
সৈয়দ পরিবারের বেশ কয়েকজন জানান, শাহ মিরান (র) এর হাতে লাগানো ডেপ ফল গাছটিতে বছরে একবার ফল ধরে। এ ফল নিয়ত করে খেলে মানুষ বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পান।
এছাড়া বকুল ফুল গাছটিতে বছরে মাত্র ফুল ধরে একটি। যার ভাগ্য ভালো তিনিই এ ফুলটি পান।
এছাড়া শাহ মিরান (র) এর হাতের লাঠি থেকে তৈরি বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে অনেকেই ফসলের ক্ষেতে ও ঘরে রেখে দিচ্ছেন ।
প্রতি বছর অগ্রহায়ন মাসের ১১ তারিখে এ মহান পীরের ২দিন ব্যপী ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। তবারকের জন্য অসংখ্য গরু-মহিষ, ছাগলসহ ধান-চাল দান করেন ভক্তরা।
পীরে পীর সৈয়দ হাফেজ আহাম্মদ তন্নুরী তাওয়াকুল্লি শাহ-মিরান (র) এর স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় সরকারীভাবে ব্যপক উদ্যেগ গ্রহন এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

হযরত শাহমিরান (র) এর বংশধর:
আমিরুল মুমেনিন সৈয়দ হযরত আলী (করমুল্লাহ)
আমিরুল মুমেনিন সৈয়দ হযরত ইমাম হাসান (রাদিআল্লাহ আনহু)
সৈয়দ হাসান আল মাসনা (র)
সৈয়দ আব্দুল আল মাহাজ (র)
সৈয়দ মুসা আল জরন (র)
সৈয়দ মুসা সানি (র)
সৈয়দ দাউদ (র)
সৈয়দ মুহাম্মদ (র)
সৈয়দ ইয়াহিয়া আল জায়েদ (র)
সৈয়দ আবি আব্দুল্লাহ (র)
সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জঙ্গি (র)
সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (র)
সৈয়দ আজাল্লা শাহ (র)
সৈয়দ হাফেজ আহাম্মদ তন্নুরী তাওয়াকুল্লি শাহ মিরান (র) বড় মাজার, কাঞ্চনপুর, রামগঞ্জ
সৈয়দ শাহ মাখদুম রূপোষ (র) রাজশাহী
সৈয়দ শাহ মুনির (র)
সৈয়দা সালেহা মাজ্জুবা বিবি (মঞ্জুমা বিবি) ছোট মাজার, কাঞ্চনপুর রামগঞ্জ।    

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে পাওয়া ঘটনাপুঞ্জী ঘেঁেট ভাষাগত ত্রুটি ও উল্লেখযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় এখানেই শাহ মিরান (র) এর কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।

বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছেন, লোকমান হোসেন বাবু ও আরিফ হোসেন  মিয়া, আবুল কালামসহ অনেকেই।

মাহমুদ ফারুক... ২৯-১-২০১৭ইং।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•রামগঞ্জে ক্ষুদে মেসি: ৪ ম্যাচে ৯ গোল! •পশুর সাথে শত্রুতা- অল্পের জন্য রক্ষা! •রামগঞ্জে প্রানে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্ত্রী বড় বোনকে ধর্ষণ; স্বামী পরিত্যক্তা আয়েশা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে •এমপি আউয়ালকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি! •আইসক্রীম খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ শেষে শিশু নুশরাত হত্যা; মূল হত্যাকারী রুবেল আটকসহ আটক ২ •একমাত্র মেয়ের চিকিৎসায় ঘরভিটি বিক্রি করলেন রিক্সাচালক বাবা •লক্ষ্মীপুরে দূর্যোগ প্রশমন দিবসে র‌্যালী •লক্ষ্মীপুরে মুনছুর আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

  • Top
    Untitled Document