Sunday,  Oct 21, 2018   11:36 AM
Untitled Document Untitled Document
সংবাদ শিরোনাম: •লক্ষ্মীপুরে মাদক ব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, বিপাকে শিক্ষক •রামগঞ্জে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বলাৎকার; অভিভাবকগণ আতঙ্কে •রামগঞ্জে ক্ষুদে মেসি: ৪ ম্যাচে ৯ গোল! •পশুর সাথে শত্রুতা- অল্পের জন্য রক্ষা! •একজন যোগ্য শিক্ষকের হাত ধরে তৈরি হয় একজন সু-নাগরিক...... ড. আনোয়ার হোসেন খাঁন •রামগঞ্জে রমজান উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত •লক্ষ্মীপুরে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Untitled Document

১২ নভেম্বরকে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবি

তারিখ: ২০১৬-১১-১২ ১১:৪০:৫৫  |  ১২৬১ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

লক্ষ্মীপুরঃ ভয়াল ১২ নভেম্বরকে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন উপকূলবাসী।

১৯৭০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামের ওই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন হাজারো মানুষ। গোটা উপকূল পরিণত হয় বিরান জনপদে। ওই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের উপকূলবাসীর কাছে এটি স্মরণীয় দিন। প্রতিবছর এই দিনটি এলে হারানো স্বজনদের স্মরণ করেন স্বজনহারা মানুষেরা।

উপকূলের বয়স্ক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ওই ঘূর্ণিঝড়টি ৮ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমেই শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়।

প্রলয়ংকরী সেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষদর্শী উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের উত্তর চর লরেন্স গ্রামের অলি আহমেদ ওরফে অলি ডাট। বয়স তার ৬৫ পেরিয়েছে। ৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের সময় তিনি টগবগে যুবক। অন্তত ১০ হাজার মরদেহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর কাজে অন্যদের সঙ্গে তিনিও সক্রিয় ছিলেন। নিজের ২৯ জন নিখোঁজ আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ করতে গিয়ে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

একই গ্রামের নবী উল্লাহ (৬০) ও আবদুল হকের (৬২) সঙ্গে আলাপ হয় ৭০ এর ঘূর্ণিঝড় নিয়ে। এরাও ওই প্রলয়ের সাক্ষী। নবী উল্লাহর বাবা ভুট্টো মিয়া ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আর নিজে অনেক কষ্ট করে বেঁচে যান। সেদিন আবদুল হকসহ তার আশপাশের ২৬ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। এদের মধ্যে শুধু আবদুল হক একাই বেঁচে আছেন। একটি ভাসমান সিন্দুক ধরে ভাসতে ভাসতে কোনো একসময় কিনারের নাগাল পেয়েছিলেন তিনি। এভাবেই তার বেঁচে থাকা।

উইকিপিডিয়ার সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবেও এটিকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরিমাপক সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল এটি। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। ওই সময়ে সেখানকার ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। একটি এলাকার প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রাণ হারানোর ঘটনা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ওই ঘূর্ণিঝড়ে তৎকালীন বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দ্বীপচরসহ বহু এলাকার ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। উপকূল অঞ্চলের বহু এলাকা বিরান জনপদে পরিণত হয়।

৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় প্রসঙ্গে প্রয়াত সাংবাদিক এম সানাউল্লাহ্ নূরী তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় হলো কার্তিক মাসের ২৮ তারিখে, অর্থাৎ বারোই নভেম্বর। আমি তখন দৈনিক বাংলার (সাবেক দৈনিক পাকিস্তান) সিনিয়র সহকারী সম্পাদক। সরেজমিনে গিয়ে আমরা চর বাদাম, চর সীতা এবং চর জব্বরে ধান ক্ষেতগুলোতে নাকে মুখে লোনা পানি লেপ্টানো হাজার হাজার লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি। সাগরে ভাসতে দেখেছি অসংখ্য লাশ। রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ভোলা এবং পটুয়াখালী পরিণত হয়েছিলো ধ্বংসস্তূপে। একটি গাছের ৩০ ফুট উঁচু মাথায় অসহায় দুর্গত কুকুরকে দেখেছি হাহাকার করতে। কোথাও পানি উঠেছে ৪০ ফুট ওপরে।’

৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডরপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এ এইচ এম নোমান। একটি নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলীয় এলাকায় ঘটেছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস। সেই ভয়াল কালো রাতে উপকূলীয় হাতিয়া, রামগতি, চর আব্দুল্লাহ, সন্দ্বীপ, ঢালচর, চর জব্বার, তজুমদ্দিন, চর কচ্ছপিয়া, চর পাতিলা, কুকরি কুমরি, মনপুরা, চরফ্যাশন, দৌলতখান, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা জলোচ্ছ্বাসে ভাসে। প্রকৃতির থাবায় একইসঙ্গে কোটি কোটি টাকার পশু, মৎস্য, ফসল, রাস্তা, কালভার্ট, বাড়িঘর, স্কুল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়।’

সূত্র বলছে, প্রলয়ংকরী ‘ভোলা সাইক্লোন’-এর আগে এবং পরেও উপকূলের ওপর দিয়ে অনেকগুলো ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিচারে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে ভয়ংকর বলে প্রমাণিত। স্বল্প পরিসরে হলেও এত বছর পরেও ওই দিবসটি পালিত হয়। দিনটিকে স্মরণ করে গণমাধ্যমও।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ৭০-এর আগে ১৮৭৬ সালে ‘বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’এ প্রায় দুই লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছিল। এর মধ্যে এক লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে। ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ তথা বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের কথা জানা যায়। ওই ঘূর্ণিঝড়েও দুই লাখ লোক প্রাণ হারায়।

তথ্যসূত্র বলছে, ১৯৭০ সালের পরের ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ছিল ভয়াবহ। এতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর, ২০০৮ সালের ৩ মে নার্গিস, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা, ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন, ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর নিলোফার, ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানুসহ বেশ কিছু ছোটবড় ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে। তবে ৭০ এর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা অন্য কোনো ঝড় অতিক্রম করতে পারেনি।

উত্তর চর লরেন্স গ্রামের অলি আহমেদ বলছিলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে তো আমাদের সব গেল। আমরা তো কিছুই পাইনি। সরকারিভাবে ১২ নভেম্বরকে “উপকূল দিবস” ঘোষণা করা হলে অন্তত সবাই একযোগে উপকূলের মানুষের কথা স্মরণ করতে পারত। শুধু ৭০ সাল কেন, আমরা তো প্রতিনিয়তই নানারকম দুর্যোগের মোকাবিলা করি। তবে ৭০-এর মতো এত বড় দুর্যোগের মুখে আমরা আর পড়িনি। সে জন্য এই দিনটিকেই আমরা উপকূল দিবস ঘোষণার দাবি জানাই।

উপকূলবাসীর কাছে স্মরণীয় দিন ভয়াল ১২ নভেম্বরকে সরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবি চর লরেন্স গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হকেরও (৬২)।

তিনি বলেন, ‘সবাই ভুলে যেতে পারলেও উপকূলের মানুষরা এই দিনটি ভুলতে পারে না। কেননা, এর সঙ্গে তাদের বেঁচে থাকা জড়িত। সরকার আমাদের দিকে তাকিয়ে দিবস ঘোষণা করে দিনটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিলে আমরা আরো ভালোভাবে স্বজনদের স্মরণ করার সুযোগ পেতে পারি। দিবস ঘোষণা করলে শুধু ঘূর্ণিঝড়ের বিষয় নয়, উপকূলের সামগ্রিক বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে।’

৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে বলছিলেন ভোলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ কামালউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, সেদিনের প্রলয়ে ভোলা অঞ্চল বিরান জনপদে পরিণত হয়েছিল। আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি, আর সহায়সম্পদ হারিয়ে বহু মানুষ পথে বসে গিয়েছিল। এত বড় ঘূর্ণিঝড় এর আগে-পরে কখনোই উপকূলবাসী দেখেনি। শুধু উপকূলবাসী নয়, গোটা দেশবাসীর কাছেই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণা করা হলে নির্দিষ্টভাবে উপকূলের কথা বলার জন্য একটি দিন পাওয়া যাবে।

দ্বীপ জেলা ভোলার মনপুরা উপজেলার শিক্ষক-সাংবাদিক আলমগীর হোসেন বলেন, ১২ নভেম্বর দিনটি যেন উপকূলের মানুষের প্রাণে গেঁথে আছে। এ দিনটি কখনোই ভুলতে পারে না। দিনটি এলেই সেই ভয়াল ছবি তাদের চোখের সামনে ভাসে। তা ছাড়া অক্টোবর-নভেম্বরের এই মৌসুমটাতেই বাংলাদেশের উপকূলে আরো কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। এইসব বিবেচনায় ১২ নভেম্বরই হোক ‘উপকূল দিবস’।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক সানাউল্লাহ সানু বলেন, ‘আমরা তো নানাভাবে অবহেলিত। উপকূলের জন্য এমন একটি দিবস প্রয়োজন, যে দিবস উপকূল সুরক্ষার কথা বলবে, উপকূলের সংকট-সম্ভাবনার কথা বলবে, উপকূলকে এগিয়ে নেওয়া কথা বলবে। যে দিবসে উপকূলবাসীর কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন শুরু হলে গোটা বিশ্বেই প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি দিবস হবে। কারণ বিশ্বের কোথাও ‘কোস্টাল ডে’ পালিত হয়েছে বলে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি। সে হিসাবে ১২ নভেম্বর ‘বিশ্ব উপকূল দিবস’ হতে পারে।RBD


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•রামগঞ্জে ক্ষুদে মেসি: ৪ ম্যাচে ৯ গোল! •পশুর সাথে শত্রুতা- অল্পের জন্য রক্ষা! •রামগঞ্জে প্রানে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্ত্রী বড় বোনকে ধর্ষণ; স্বামী পরিত্যক্তা আয়েশা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে •এমপি আউয়ালকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি! •আইসক্রীম খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ শেষে শিশু নুশরাত হত্যা; মূল হত্যাকারী রুবেল আটকসহ আটক ২ •একমাত্র মেয়ের চিকিৎসায় ঘরভিটি বিক্রি করলেন রিক্সাচালক বাবা •লক্ষ্মীপুরে দূর্যোগ প্রশমন দিবসে র‌্যালী •লক্ষ্মীপুরে মুনছুর আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

  • Top
    Untitled Document