Thursday,  Nov 15, 2018   03:43 AM
Untitled Document Untitled Document
সংবাদ শিরোনাম: •লক্ষ্মীপুরে মাদক ব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, বিপাকে শিক্ষক •রামগঞ্জে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বলাৎকার; অভিভাবকগণ আতঙ্কে •রামগঞ্জে ক্ষুদে মেসি: ৪ ম্যাচে ৯ গোল! •পশুর সাথে শত্রুতা- অল্পের জন্য রক্ষা! •একজন যোগ্য শিক্ষকের হাত ধরে তৈরি হয় একজন সু-নাগরিক...... ড. আনোয়ার হোসেন খাঁন •রামগঞ্জে রমজান উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত •লক্ষ্মীপুরে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Untitled Document

বৃষ্টি উপেক্ষা করে জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ

তারিখ: ২০১৬-১১-০৬ ১১:৫৬:০৯  |  ১৯২৩ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

মাহমুদ ফারুক: 

তিনি আসলেন, সাইরেন বাজিয়ে। প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন পুলিশের গাড়ীর সাইরেন শুনে অনেক দুরের মানুষও বুঝতে পারতেন। বলতেন মন্ত্রী সাব আসছে, জিয়া ভাই আসছে। অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন নেতাকর্মীরা। মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন হাজীগঞ্জ অথবা কাটাখালি ব্রীজের উপর।
বিশাল স্টেজ বা প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতেন সহাস্যে। 
একজন উপস্থাপক চিৎকার করে বলতেন, এ মুহুর্তে আপনাদের সম্মুক্ষে বক্তব্য রাখবেন সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের নয়নমনি, তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, রামগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার জ------না-------ব, জিয়াউল হক জিয়া।
আজ শনিবারও তিনি আসলেন। হেলিকপ্টারযোগে আসার কথা থাকলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে তিনি আসলেন সাইরেন বাজিয়ে। নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্নদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সাধারন মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কখন আসবেন। আজও পুলিশ ছিলো, স্টেজ ছিলো, বক্তব্য রাখার মাইকও প্রস্তুত।
শ্লোগান ছিলো 
"কলেমায় শাহাদাৎ আশশাদুআল্লাহলাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াদাহু লা শারিকালাহু ওয়া শাদুআন্না মোহাম্মাদান আবদুহুয়া রাসূল"
তিনি এসেছেন লাশবাহী গাড়ীতে করে, কফিনে মোড়ানো।
স্টেজে উঠলেন, তবে এবার শোয়া অবস্থায় নি:স্প্রান দেহ। আজ তিনিই একমাত্র শ্রোতা। আর হাজার হাজার মানুষ বক্তা। 
বক্তব্য একটাই, আমাদের প্রানপ্রিয় জিয়া ভাই আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন
না ফেরার দেশে। কান্নার শব্দগুলো মনে হচ্ছে শ্লোগান। চারদিক থেকে কান্নার শব্দ। সাধারন মানুষ আজ আকুল হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে তার রূহের আত্মার মাঘফেরাত কামনা করছেন।
যিনি আজ ষ্টেজে সবার সামনে লাশ হয়ে শুয়ে আছেন কফিনে তিনি আজ একজন সাধারন মানুষ। যাকে দেখার জন্য দুইটি দিন (শুক্র ও শনিবার) বৃষ্টি উপেক্ষা মাথায় করে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছেন।
তিনি রামগঞ্জবাসীর প্রানের নেতা জিয়াউল হক জিয়া।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬,৩০ মিনিটে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ব্রামগ্রুদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন।
মাত্র ৬৪ বছর বয়সে অত্যান্ত জনপ্রিয় একজন মানুষ না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়েসহ লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুসারী রেখে গেছেন মৃত্যুর সময়।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় মরহুম জিয়ার লাশ বিমানযোগে ঢাকায় আসার পর দুপুর আড়াইটায় হেলিকপ্টারযোগে রামগঞ্জ আসার কথা ও বিকাল সাড়ে তিনটায় রামগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারনে সন্ধার আগে জিয়াউল হক জিয়াকে বহনকারী লাশবাহী গাড়ি রওয়ানা দেয় রামগঞ্জের উদ্দেশ্যে। এদিকে প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন, কখন তাদের প্রিয় নেতার লাশের কফিনটি একনজর দেখবেন।
অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে হাজীগঞ্জ হয়ে লাশবাহী (ফ্রিজিং) গাড়ীটি সাইরেন বাজিয়ে রামগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে এসে পৌছায় রাত ৮.১৮ মিনিটে। চারদিকে থেকে পুলিশের বাশির শব্দ, সাধারন মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সবাই লাশের কাছে যেতে গলদগর্ম। হতবম্ভ হয়ে পুলিশ হাল ছেড়ে দিচ্ছে বার বার।
লাশ রাখা মাত্র কান্নার শব্দ চারদিকে।
উপায়ন্তর না দেখে ৮, ৩৮ মিনিটে জিয়াউল হক জিয়ার নিকটাত্মীয় কেথুড়ী ফাজেল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুজিবুল হক দ্রুত জানাজা পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
জানাজার নামাজ শেষ করে মুনাজাত করা হয় মহান রাব্বুল আলামীন জিয়াউল হক জিয়াকে যেন মানুষের ভালোবাসা দোয়ায় যেন জান্নাতবাসী করেন।
মুনাজাত শেষে আবারো লাশবাহী গাড়ীতে করে জিয়াউল হক জিয়ার অপেক্ষারত বোন, নিকটাত্মীয়দের লাশ দেখানোর জন্য রামগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিস সংলগ্ন গাজী ভবনে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত সোয়া ৯টায় ঢাকার মোহাম্মদপুরের নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয় লাশবাহী গাড়ী।
বড় ছেলে মুশফিকুল হক জয় জানান, রবিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় তৃতীয় ও মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে চতুর্থ জানাজা শেষে জিয়াউল হক জিয়ার বাবা মরহুম জিতু মিয়ার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
আর জিয়াউল হক জিয়াকে কবর দেয়ার সাথে সাথে শেষ হবে তার ইহকালীন সব হিসাব। শুরু হবে পরকালীন ব্যবস্থা।
আর সাধারন মানুষ মহান সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামীনের নিকট ফরিয়াদ করবেন আল্লাহপাক যেন তাকে জান্নাত নসীব করেন।
আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরন করবেন রামগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ। কারন তারাই জানেন, রামগঞ্জবাসী কি হারিয়েছেন। তার অবর্তমানে কেউই সে স্থান কখনো দখল করতে পারেন কি না। তা সময় বলে দিবে।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•রামগঞ্জে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বলাৎকার; অভিভাবকগণ আতঙ্কে •রামগঞ্জে রমজান উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত •রামগঞ্জে শান্তিপূর্ন নির্বাচনের দাবিতে প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন • রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি: একের পর বহিস্কার অব্যহতি কোনঠাসা তৃণমূল •রামগঞ্জে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে সম্পত্তি দখল •রামগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে বিআরডিবি চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেন বাচ্চুর মতবিনিময় •১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপ-কেন্দ্র স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহন: রামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরন আদায়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ •রামগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ত্রাসী দিয়ে সম্পত্তি দখল
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

  • Top
    Untitled Document